
গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দেখা গেল নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পোস্টার—ঘটনাটি ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে শিক্ষাঙ্গনে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ–এর পোস্টার রাতের আঁধারে সাঁটানো হয় বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, সামাজিক বিজ্ঞান ভবন ও শ্যাডো এলাকাসহ একাধিক স্থানে এসব পোস্টার লাগানো হয়। পোস্টারগুলোতে মূলত সংগঠনটির কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি তোলা হয়েছে। সকালে বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
এদিকে রাত ১টার দিকে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে বিভিন্ন স্থাপনায় পোস্টার লাগানোর দৃশ্য দেখা যায়।
ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসের দেয়াল ও স্থাপনা থেকে বিতর্কিত পোস্টারগুলো অপসারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় রাতে পোস্টার লাগানো হয়েছে, সেসব পয়েন্টে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের তলব করা হবে। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কারা এ ঘটনায় জড়িত তা শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিষিদ্ধ সংগঠনের এই তৎপরতার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ নামে একটি ছাত্র সংগঠন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার বিকেল ৩টায় টিএসসি সংলগ্ন এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীও শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা রুখতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্যাম্পাসকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে প্রক্টরিয়াল টিম টহল জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ্য করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাসও দেন তিনি।
বর্তমানে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ছাত্র সংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে প্রশাসন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।