
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে এবং শেখ হাসিনার মতো আর কোনো ফ্যাসিস্ট শাসকের উত্থান হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সরাসরি জনগণই নেবে গণভোটের মাধ্যমে। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।
সোমবার ৫ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত একটি নির্বাচনি কর্মশালায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যত কীভাবে চলবে, তা গণভোটের ফলাফলের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জুলাই সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হলে তা বাস্তবায়নের বিষয়ে দেশের জনগণই গণভোটে রায় দেবে।’
তিনি জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে সাধারণ মানুষের হাতেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে। এবার সেই সুযোগ জনগণেরই থাকবে। আপনি চাইলে অংশ নিতে পারবেন, চাইলে না নিতেও পারেন। তবে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর না করে জনগণ নিজেরাই ঠিক করবে যে আগামীতে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মতো আরেকটি ফ্যাসিস্ট তৈরি হবে কি হবে না। আপনি, আমি, আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিতে পারব না; এটি থাকবে বাংলাদেশের জনগণের হাতে।’
গণভোট ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি চাইলে কাউকে ক্ষমা দিতে পারবেন না। সব সিদ্ধান্ত জনগণের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। ফলে গণভোটের বিষয়টি যদি কেউ বলে ‘গণভোট কী?’ আমি জেলা প্রশাসকসহ সকলকে অনুরোধ করছি, এটি খুব সহজ ভাষায় জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। যা সত্য এবং মানুষের জন্য বোঝার মতো হবে।’
ড. আলী রীয়াজ বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল স্বল্পমেয়াদি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক সুবিধা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সুযোগ তৈরি করছি, যাতে কেবল আগামী পাঁচ বছর নয়, বরং আগামী ৫০ বছর দেশের জনগণ এই ব্যবস্থার সুবিধা ভোগ করতে পারে।’