
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন এক অভিযোগ সামনে আসার পর দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেলানিয়ার এক সাবেক পরিচিত ব্যক্তির দাবি, তিনি একসময় দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের ‘এসকর্ট’ হিসেবে কাজ করতেন এবং এপস্টাইনের মাধ্যমেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। তবে এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিলীয় সাবেক মডেল আমান্ডা উঙ্গারো একটি অডিও বার্তায় দাবি করেন, মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পেছনে জেফরি এপস্টাইনের ভূমিকা ছিল। একই সঙ্গে তিনি মেলানিয়ার অতীত সম্পর্কেও বিতর্কিত কিছু অভিযোগ তোলেন।
অডিও বার্তায় আমান্ডা উঙ্গারো তার সাবেক সঙ্গী ও মডেলিং এজেন্ট পাওলো জ্যাম্পোলির দীর্ঘদিনের দাবি প্রশ্নবিদ্ধ করেন। জ্যাম্পোলি বহু বছর ধরে বলে আসছেন, ১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে তিনিই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়ার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। উঙ্গারোর বক্তব্য, ঘটনাটি সে রকম ছিল না।
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন পাওলো জ্যাম্পোলি। তিনি বলেন, ফার্স্ট লেডিকে ঘিরে এ ধরনের মন্তব্য ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রচারিত অডিওর কিছু অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান।
অন্যদিকে মেলানিয়া ট্রাম্পও অতীতে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। চলতি বছরের এপ্রিলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জেফরি এপস্টাইন তার ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচয়ের মধ্যস্থতাকারী ছিলেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে কাকতালীয়ভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে সেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত কিছু নথিতে এপস্টাইনের এক সাবেক সহযোগী দাবি করেছিলেন যে এপস্টাইন ট্রাম্প ও মেলানিয়ার পরিচয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত বা বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত এখনো সামনে আসেনি।
এদিকে বিতর্কিত অডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও হোয়াইট হাউস কিংবা ফার্স্ট লেডির কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।