
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হ্যান্ডকাফ পরানোর কারণ জানতে চেয়েছেন জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
রোববার ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে বক্তব্য দেওয়ার সময় পলক বলেন, তাকে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে। এ সময় দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছিল। চিকিৎসক তাকে মাথায় ভারী কোনো কিছু না পরার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। গাড়ি থেকে নামিয়ে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেওয়ার সময়ও একই নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছিল বলে জানান পলক।
পলকের ভাষ্য, ট্রাইব্যুনাল একটি নিরাপদ জায়গা। তাই সেখানে অল্প সময়ের জন্য হলেও তাকে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানোর প্রয়োজন কেন হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় এদিন নবম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর কাঠগড়ায় থাকা পলক ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে ব্যবহৃত কম্পিউটারের উইন্ডোজ সফটওয়্যার নিয়েও কথা বলেন পলক। তিনি সফটওয়্যারটিকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ দাবি করে ট্রাইব্যুনালে লাইসেন্স করা উইন্ডোজ ব্যবহারের অনুরোধ জানান।
পলকের বক্তব্যের পর তার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রসিকিউশনের অবস্থান জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, আসামি পলককে যে নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে, সেটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়। এ ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল বা প্রসিকিউশনের কিছু করার নেই।
উইন্ডোজ সফটওয়্যার ব্যবহারের বিষয়ে প্রসিকিউশন বিষয়টি দেখবে বলে জানান গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, এ নিয়ে আইটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
পরে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেন, পাইরেটেড সফটওয়্যার যাতে ব্যবহার করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।