.webp)
ব্রিটেনের গ্রিন পার্টি জায়নবাদকে ‘বর্ণবাদের একটি রূপ’ হিসেবে বিবেচনা করে আনুষ্ঠানিক নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) ব্রাইটনে অনুষ্ঠিত দলের বার্ষিক সম্মেলনে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদন করা হয়।
প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন দলের ১ হাজার ২২ জন সদস্য। বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৮১৩টি। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে গ্রিন পার্টির আনুষ্ঠানিক নীতিতে জায়নবাদকে অন্যান্য বর্ণবাদী মতাদর্শের মতোই বিবেচনা করার অবস্থান যুক্ত হলো।
গ্রিন পার্টির ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত প্রস্তাবে জায়নবাদকে একটি ‘জাতিগত-জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক প্রকল্প’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জায়নবাদবিরোধী অবস্থানকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে অভিন্ন হিসেবে দেখার বিরোধিতা করা হয়েছে।
প্রস্তাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা অর্জন, নিজ ভূমিতে ফিলিস্তিনিদের ফিরে যাওয়ার অধিকার এবং ইসরাইলকে লক্ষ্য করে বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা বা বিডিএস কর্মসূচির প্রতি দলের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরাইলের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও জানানো হয়েছে।
গ্রিন পার্টির এক মুখপাত্র বলেছেন, তাদের দল একটি ‘বর্ণবাদবিরোধী দল’। ফিলিস্তিনি ও সিরীয় ভূখণ্ডের অবৈধ দখল হিসেবে দলটি যেটিকে বিবেচনা করে, তার বিরুদ্ধেও তারা অবস্থান নিয়ে আসছে।
২০২৪ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে গ্রিন পার্টি ইসরাইল সরকারকে ‘অ্যাপারথেইড’ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। সে সময় দলটি ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অ্যাপারথেইড কনভেনশন এবং ১৯৯৮ সালের রোম স্ট্যাটিউটসহ আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর উল্লেখ করেছিল।
এবারের ‘জায়নবাদ বর্ণবাদ’ শীর্ষক প্রস্তাবটি ‘গ্রিনস ফর প্যালেস্টাইন’ নামের একটি গোষ্ঠী উত্থাপন করে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, জায়নবাদ একটি জাতিগত গোষ্ঠীকে অন্যদের অধীনস্থ করার মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা প্রতিষ্ঠা করে।
তবে প্রস্তাবের ব্যাখ্যায় একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এর উদ্দেশ্য জায়নবাদে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের ধর্মীয় কিংবা জাতিগত পরিচয়কে নিশানা করা নয়। বরং রাজনৈতিক মতাদর্শ ও তার চর্চা হিসেবে জায়নবাদের বিরোধিতা করাই এই নীতির লক্ষ্য।