
নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় বক্তব্য ঘিরে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফয়জুল হক। একটি উঠানবৈঠকে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝালকাঠি-১ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক রেজওয়ানা আফরিন এই শোকজ নোটিশ জারি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে কিংবা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার মতো বক্তব্য দিয়েছেন ফয়জুল হক।
নোটিশে তাঁকে আগামী ১২ জানুয়ারি সোমবার সশরীরে কমিটির প্রধানের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর প্রার্থী হিসেবে দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকেও কমিটির কাছে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য, সংবাদ প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, গত ৭ জানুয়ারি বুধবার রাতে রাজাপুর উপজেলায় আয়োজিত একটি নির্বাচনী উঠানবৈঠকে তিনি জনসমক্ষে বলেন, “আমার ভাই হয়তো কোনোদিনই ইবাদত করার সুযোগ পান নাই, ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে ওই দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর দ্বারে কবুল হয়ে যায়, এমনও হতে পারে পেছনের সব মাফ করে দিয়ে আল্লাহ তাকে ভালো করে দিতে পারে।” এই বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে কমিটির নজরে আসে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা বা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়া রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫-এর উপবিধি (ক) অনুযায়ী নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী স্বার্থে ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করে বিধি ১৬-এর উপবিধি (ঙ) এবং নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা চালিয়ে বিধি ১৮ লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আনা হয়। এসব কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্বাচন কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদন পাঠানো হবে না, সে বিষয়ে নির্ধারিত তারিখে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফয়জুল হক বলেন, “আমার বক্তব্যটি মিসলিড করা হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে সব শ্রেণিপেশার মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে হয়। সমাজে দাড়িওয়ালা, দাড়ি ছাড়া, বিড়ি বা সিগারেট খান এমন মানুষও আছেন। আমি বিশেষ করে দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশে বলেছি; আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইবেন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সঠিক সময়ে নোটিশের জবাব দিতে প্রস্তুত আছি।”