
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, একটি গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়েছে এবং তার এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব অপচেষ্টার জবাব দিতে জামায়াতের সাইবার টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে এবং ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একটি গোষ্ঠী আমার পেছনে লেগেছে। আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা তা চালায় দিয়েছে। আর অমনি একটা দল ঝাঁপিয়ে পড়ে তাইরে, নাইরে গান শুরু করেছে। লজ্জা, ওদের চুনোপুঁটি তো গাইলো বটে তাদের বড় বড় মাথা গুলোও গাইতে শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু তারা পেরে উঠেনি, আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে গলা টিপে ধরেছে। সত্য কখনও ধামাচাপা দেওয়া যায় না। ইতোমধ্যে প্রধান অপরাধীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। সূর্যকে মেঘ ঢেকে রাখতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী নিজের দলের বিজয় নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চায়। তার ভাষায়, “আমরা কোনো দলীয় রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই না। বিভক্তি নয়, ঐক্য চাই।” তিস্তা পাড়ের মানুষের মধ্যে তিনি গণজোয়ার দেখছেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আধিপত্যবাদ নয়, সমতা প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, “রংপুরের সন্তান শহীদ আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে বলেছে অধিকার দাও; না হলে গুলি। সাঈদ বুকে তিন তিনটি গুলি নিয়েছে বীরের মতো। এখান থেকে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাঈদ, মুগ্ধ, হাদিসহ ১৪ শত শহীদ হয়েছে। এদের রক্তে নদীগুলো লাল হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এ রক্তের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করবো না। তারা জীবন দিয়ে দেশের যে আমানত আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, সেই আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত।”
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কুড়িগ্রাম দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলা এবং এখান থেকেই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হবে। তিনি বলেন, “আমার কাছে দাবি জানাতে হবে না। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না। উন্নয়ন করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব।” কুড়িগ্রামকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, কৃষি বিপ্লব হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং এই জনপদ সমৃদ্ধ হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, কুড়িগ্রামের তিনটি বড় নদী ধ্বংস করে এলাকাকে মরুভূমিতে পরিণত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় বাজেট লুট হয়েছে। তার ভাষায়, “২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার কর হয়েছে।” ক্ষমতায় গেলে এসব অর্থ উদ্ধার করা হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
জনসভায় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমির।
কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করে তিন উপজেলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, দুর্নীতির কারণে দীর্ঘ ৫৪ বছর এই অঞ্চল উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা গেলে একটি কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী) আসনের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শিল্পকারখানা স্থাপন করে বেকারত্ব দূর করা হবে।
কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ি) আসনের এনসিপি প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের কারণে কুড়িগ্রাম পিছিয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে কুড়িগ্রামের বঞ্চনা দূর করতে চান এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির রাজনীতির বদলে কর্মসংস্থানের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান। নদীর বাঁধ নির্মাণ ও চরাঞ্চলের উন্নয়নেও কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন বলেন, “১২ তারিখের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’, তারপর হবে সরকার গঠনের ভোট।” তিনি আরও বলেন, “কোথাও আমরা আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। দেশে কোনো চাঁদাবাজি, ছিনতাই থাকবে না, সব সিন্ডিকেট ভেঙে আমরা চুরমার করে দেবো।” তার ভাষায়, “‘হ্যাঁ’ ভোট হলো আজাদী আর ‘না’ হলো গোলামী। আমরা ইনসাফভিত্তিক মানবিক রাজনীতি করতে চাই।”