
জাপানের উত্তর-মধ্যভাগে অবস্থিত কাশিওয়াজাকি-করিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৬ নম্বর রিঅ্যাক্টরের পুনঃচালু প্রক্রিয়া অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (TEPCO) জানিয়েছে, রিঅ্যাক্টরটি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) TEPCO জানিয়েছে, রিঅ্যাক্টর পুনঃচালুর সময় কর্মীরা নিউট্রন শোষণকারী কন্ট্রোল রড সরিয়ে নিরাপদ নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কন্ট্রোল রডে ত্রুটি ধরা পড়ায় কাজ বন্ধ করতে হয়েছে। রিঅ্যাক্টর নিরাপদে চালু বা বন্ধ করার ক্ষেত্রে কন্ট্রোল রডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
TEPCO-এর মুখপাত্র তাকাশি কোবায়াশি বলেন, “আমরা ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের তদন্ত করছি। রিঅ্যাক্টর স্থিতিশীল আছে এবং কোনো রেডিওএক্টিভ প্রভাব বাইরে ছড়াচ্ছে না। সমস্যার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য এটি আবার বন্ধ রাখা হয়েছে।”
বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতার পারমাণবিক কেন্দ্র হিসেবে কাশিওয়াজাকি-করিওয়ার মধ্যে বর্তমানে শুধু একটি রিঅ্যাক্টর সক্রিয়। ২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর জাপান সব পারমাণবিক কেন্দ্র বন্ধ করেছিল। তখন ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রের তিনটি রিঅ্যাক্টরে মেল্টডাউন ঘটে।
জাপান বর্তমানে পুনরায় পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার শুরু করতে চাচ্ছে, যাতে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমানো যায় এবং ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন সম্ভব হয়। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ানো হবে। ২০১১ সালের পর জাপানের ১৪টি অন্যান্য রিঅ্যাক্টর ইতিমধ্যেই পুনঃচালু হয়েছে।
৬ নম্বর রিঅ্যাক্টর চালু হলে এটি প্রায় ১৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে, যা টোকিওর এক মিলিয়নের বেশি পরিবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তবে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিরোধী মতও রয়েছে। নিইগাতা প্রদেশের জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ পুনঃচালুর বিরুদ্ধে, এবং ৩৭ শতাংশ সমর্থন প্রকাশ করেছে। ৭৩ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা ইয়ুমিকো আবে বলেন, “টোকিওর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমরা কেন ঝুঁকিতে থাকব? এটা কোনো মানে হয় না।”
সাম্প্রতিক সময়ে সাতটি নাগরিক সংগঠন জাপানের নিউক্লিয়ার রেগুলেশন অথরিটিকে ৪০ হাজার স্বাক্ষরের পিটিশন জমা দিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে, পারমাণবিক কেন্দ্রটি একটি সক্রিয় ভূমিকম্প জোনের ওপর অবস্থিত এবং ২০০৭ সালে সেখানে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছিল।