
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় যুক্ত হচ্ছে জাপান। নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য আগামী ৯ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
ঢাকায় অবস্থিত জাপান দূতাবাস জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদারে সহায়তা করাই এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য।
জাপানের পাঠানো নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক জাপানি রাষ্ট্রদূত ওয়াতানাবে মাসাতো। তার সঙ্গে থাকবেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা এবং একজন স্বতন্ত্র নির্বাচন বিশেষজ্ঞ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব থাকায় মিশনের কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পর্যবেক্ষক দলটি শুধু ভোটগ্রহণের দিন নয়, ভোট গণনার প্রক্রিয়াও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। একই সঙ্গে তারা নির্বাচনী পরিবেশ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখবে। নির্বাচন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময়ও করবে জাপানের এই দল।
এ ছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং অন্যান্য দেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সঙ্গেও মতামত ও তথ্য আদান-প্রদান করবে জাপানের পর্যবেক্ষক দল। এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানিয়ে যে ঘোষণা দিয়েছে, জাপানের এই উদ্যোগ সেই ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়। জাপান সরকারের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ধারাবাহিক অংশ হিসেবেই এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানো হচ্ছে। জাপান আশা করছে, এই উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত করবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।