
জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাইবার সক্ষমতা বৃদ্ধি, দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ফিরে দেখা জুলাই-২৪’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাওয়া চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল হক।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা এখন শুধু সীমান্ত সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ ও তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাড়াতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং দেশীয় প্রযুক্তি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ড. শামছুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। দুর্যোগ, সংকট ও জাতীয় প্রয়োজনে বাহিনীর জনগণের পাশে থাকার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয় আরও জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারাও তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দিয়ে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ এবং নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাসী। বিমসটেকসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ সমুদ্র ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বনির্ভর করতে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে উন্নত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে।
রাওয়ার সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশপ্রেম কোনো বয়সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কর্মজীবন থেকে অবসর নিলেও দেশের প্রতি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সংকট মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। তিনি রাওয়াকে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা নস্যাৎ করতে দেশি-বিদেশি যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জাতি প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্র সংস্কার এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে রাওয়ার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানানো হয়।