
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশাল অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
তিন হাজারেরও বেশি সদস্যের এই যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২২ জনকে। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মোট তিনটি মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) র্যাব-৭ একটি এবং পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন এবং অস্ত্র তৈরির ৫৭টি পাইপ উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ৬১টি কার্তুজ, ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল এবং পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সেখানে রীতিমতো অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে এই অভিযানে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশ নেন। অভিযান তদারকি করেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান।
দুর্গম পাহাড়ে এই অভিযান কার্যকর করতে তিনটি হেলিকপ্টার, ১২টি ড্রোন, ১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার) এবং র্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হয়। এ সময় সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পুলিশ জানায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র মজুত, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি এবং অপরাধীদের আশ্রয়স্থল তৈরির অভিযোগ ছিল। প্রায় ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই এলাকায় অন্তত দেড় লাখ মানুষের বাস। এলাকাটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ইয়াসিন গ্রুপ, রোকন গ্রুপ ও রিদোয়ান গ্রুপের মতো স্থানীয় প্রভাবশালীরা এখানে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশের জন্য সেখানে নিজস্ব ‘গেটপাস’ পদ্ধতি চালু ছিল।
এর আগে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে এই এলাকায়।