
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (৪ মে) বিকেলে তিনি জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যদিও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
পরে রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল প্যানেলের হল সংসদ প্রার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলীকে প্রশাসন সাময়িক বহিষ্কার করলেও তাকে আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলীর তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ভাইভা পরীক্ষা সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি ভাইভায় উপস্থিত হয়ে উপস্থিতি খাতায় স্বাক্ষরও করেন।
এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পরে জকসু সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ জানালে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে ভাইভা শেষে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ক্রিস্টিন রিচার্ডসনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নাসিরুদ্দিন বলেন, সাময়িক বহিষ্কার থাকলেও পরীক্ষা দিতে আইনগতভাবে বাধা নেই। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে পরবর্তী সময়ে স্থায়ী বহিষ্কার হলে সব পরীক্ষা বাতিল হবে।
জর্জিস আনোয়ার নাঈম বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনার পর প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। সাময়িক বহিষ্কার দেখিয়ে পরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়াকে তিনি ‘আইওয়াশ’ বলে মনে করছেন। এ কারণেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং বিষয়টি উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনডোর গেমস চলাকালে জকসু ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলীর বিরুদ্ধে। পরে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য ও হুমকির অভিযোগও উঠে আসে। বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।