
আগামীকাল থেকে টানা সাত দিনের ঈদের ছুটিতে যাচ্ছে দেশের ব্যাংক, বিমা, পুঁজিবাজারসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান। শেষ কার্যদিবসে ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। লম্বা এই ছুটিতে ব্যাংকগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার পাশাপাশি এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসে ব্যস্ততা বেড়েছে রাজধানীর ব্যাংকপাড়া মতিঝিলে। সকাল থেকে প্রায় সব ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় ছিল গ্রাহকের উপচে পড়া ভিড়। নগদ টাকা উত্তোলনের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার থেকেই টানা সাত দিনের ঈদের ছুটি। তার আগেই নিজেদের প্রয়োজনমতো টাকা জমা, উত্তোলন, চালানপত্র জমা ও বিভিন্ন ধরনের সেবার বিল পরিশোধ করতে ব্যাংকে ভিড় করেন গ্রাহকরা। ব্যাংকাররা জানান, এখন জমার চেয়ে উত্তোলনের পরিমাণই বেশি। গ্রাহকের চাহিদামতোই টাকা দেওয়া হচ্ছে।
অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখার মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘এখানে যারা নিয়মিত গ্রাহক আসছেন, তাঁদের জন্য আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রাখা আছে সব প্রকার ভাংতি টাকাসহ। সবার চাহিদা যাতে আমরা পূরণ করতে পারি। ঈদের আগে একজন মানুষ সারা বছর ব্যাংকিং করে যাতে কোনোভাবেই মনক্ষুণ্ন না হন।’
টানা ছুটিতে ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সাথে বন্ধের এই সময়ে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশও দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘নিরাপত্তা যাতে সুনিশ্চিত থাকে। এখানে যেন কোনো ধরনের অঘটন ঘটানো বা ব্যাংক প্রাঙ্গণে অবৈধভাবে প্রবেশ করা—এ ধরনের অনুপ্রবেশের সুযোগ কোনো দুষ্কৃতকারী যাতে না পায়, সে ব্যাপারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
এদিকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এবং পোশাক খাতের কর্মীদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধে কিছু এলাকায় ঈদের দিন ছাড়া সীমিত পরিসরে ব্যাংকের কিছু শাখা খোলা থাকবে।