
রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে নেত্রকোনার এক ছাত্রলীগ নেতাকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছেন তার বাবা। এই বিরল ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মীর মো. সাজিদুর রহমান ছোটন, যিনি দীর্ঘদিন পারিবারিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে এই চরম সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আদালতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছোটনকে ত্যাজ্য করার ঘোষণা দেন তার বাবা মীর মো. আব্দুল মালেক। পরদিন ছোটন নিজের ফেসবুক আইডিতে নোটারির ছবি পোস্ট করে একটি বিস্তারিত বিবরণ শেয়ার করলে তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
ত্যাজ্য ঘোষণাপত্রে আব্দুল মালেক উল্লেখ করেছেন, পরিবারের প্রায় সব সদস্যই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র প্রবক্তা, কিন্তু ছোটন কৈশোর থেকেই পরিবারের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সরে গিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বই বাবাকে এমন চূড়ান্ত পদক্ষেপে বাধ্য করেছে।
বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, ছোটনের “অসদাচরণ ও রাজনৈতিক আদর্শের সংঘাত”ই সম্পর্ক ছিন্ন করার মূল কারণ। ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে ছোটনের নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকলেও তার কর্মকাণ্ডের দায়ভার এখন থেকে পরিবার বহন করবে না।
ছোটন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “বছরের পর বছর ধরে পরিবারের ভেতরে যা ঘটেছে, তা আমি গোপন রাখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে চলে এসেছে।” তিনি নিজেকে ক্লান্ত উল্লেখ করলেও ছাত্রলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পথচলা থেমে থাকবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার কিছু লাইন উদ্ধৃত করে নিজের লড়াকু মানসিকতা প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ছোটনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তাকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখে মানসিক সমর্থন দিচ্ছেন।
নেত্রকোনার স্থানীয় রাজনৈতিক মহলও এই ঘটনাকে প্রধান আলোচনার বিষয় হিসেবে দেখছে। অনেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছোটনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।