
চীনের শানসি প্রদেশের একটি কয়লা খনিতে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত আটজন শ্রমিকের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং খনির গভীরে এখনো প্রায় ৩৮ জন শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স সিনহুয়ার বরাতে জানায়, শুক্রবার (২২ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শানসি প্রদেশের উত্তরাঞ্চলীয় চাংঝি শহরের লিউশেনিউ কয়লা খনিতে এই প্রলয়ঙ্করী বিস্ফোরণটি ঘটে। ঘটনার সময় মাটির নিচে আনুমানিক ২৪৭ জন খনি শ্রমিক নিয়োজিত ছিলেন।
স্থানীয় উদ্ধারকারী ও প্রশাসনের তৎপরতায় শনিবার (২৩ মে) সকাল ৬টা পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন শ্রমিককে অক্ষত ও নিরাপদ অবস্থায় ভূগর্ভ থেকে ওপরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে নিখোঁজ বাকি শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারে এখনো সেখানে শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান সচল রাখা হয়েছে।
ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গতি ও শক্তি প্রয়োগের জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনার আসল কারণ খতিয়ে দেখে এর পেছনে দায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে শানসি প্রদেশ চীনের অন্যতম প্রধান এবং বৃহত্তম কয়লা উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে সুপরিচিত। প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের আবাসস্থল এই প্রদেশটি থেকে গত বছর রেকর্ড ১.৩ বিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছিল, যা মূলত পুরো চীনের মোট কয়লা চাহিদার প্রায় তিন-ভাগের এক-ভাগ।
তবে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও শানসির এই খনি শিল্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ঘাটতি ও দুর্বলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দেশ-বিদেশে নানা সমালোচনা চলছে। এর ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলের বিভিন্ন খনিতে একের পর এক বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।