
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের পুনরায় একত্রীকরণ অনিবার্য এবং এটি ঠেকানো সম্ভব নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের এই লক্ষ্য “অপ্রতিরোধ্য”।
খ্রিষ্টীয় নববর্ষের প্রাক্কালে প্রদত্ত ভাষণে শি জিনপিং এসব মন্তব্য করেন। উল্লেখযোগ্য, এই ভাষণের ঠিক একদিন আগে তাইওয়ানকে ঘিরে বড় ধরনের সামরিক মহড়া শেষ করে চীন। ভাষণে তিনি আরও বলেন, “তাইওয়ান প্রণালির দুই পাশে বসবাসকারী চীনাদের মধ্যকার বন্ধন রক্ত ও আত্মীয়তার।”
চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ মনে করে এবং দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার অঙ্গীকার করে আসছে। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। শি জিনপিং ঘোষণা দিয়েছেন, দ্বীপটির ওপর সাম্রাজ্যবাদী জাপানের শাসনের অবসান স্মরণে প্রতি বছর “তাইওয়ান পুনরুদ্ধার দিবস” পালিত হবে।
আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ান স্বাধীনতা ঘোষণা করেনি। তবে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) দ্বীপটিকে কার্যত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখছে। বৃহস্পতিবার নববর্ষের ভাষণে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে দ্বীপটিকে আরও নিরাপদ করার অঙ্গীকার করেন।
প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেন, “চীনের ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণবাদী আকাঙ্ক্ষার ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নজর রাখছে।”
সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের সামরিক মহড়া ছিল আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বৃহৎ। এর প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন তাইপের জন্য বড় আকারের অস্ত্র সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছে। এরপরই বেইজিং মহড়াটি শুরু করে, যার নাম রাখা হয়েছে ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’। চীনা কর্মকর্তারা এটিকে “বিচ্ছিন্নতাবাদী” ও “বহিরাগত হস্তক্ষেপকারী”দের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।