
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে জমি ও গোচারণভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীর করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত মোসলেম উদ্দিন প্রামাণিক (৬২) উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের পাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কাজলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাকুরিয়া বাজারে চা পান করে বাড়ি ফিরছিলেন মোসলেম উদ্দিন। পথে নান্টুর মোড় এলাকায় পৌঁছালে পূর্ববিরোধের জেরে একদল ব্যক্তি তার পথরোধ করে হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সখিনা বেগম সারিয়াকান্দি থানায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারে নাম থাকা ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চর শুভগাছা গ্রামের হায়দার আলী খান (৭০) ও গিয়াস আলী খান (৭৫), সারিয়াকান্দি উপজেলার চর পাকুরিয়া গ্রামের নান্টু সরকার (৫৬), সুজন মণ্ডল (৩২), মোখলেসুর রহমান (৫৫) এবং সোহেল সরকার (৩৫)।
নিহতের ভাই ও কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজাহান আলী অভিযোগ করেন, জমি ও গোচারণভূমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরেই নান্টু সরকারের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে তার ভাইকে গুরুতর আহত করা হয়। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, চরাঞ্চলের জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের স্ত্রীর করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।