
গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই একে অপরের প্রতি আস্থা রাখা উচিত।
রোববার (১২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেলের শপথ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “কোথাও কোনো সমস্যার উদ্ভব হলে আপনারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন অথবা প্রয়োজনে আমাকে জানাবেন। কিন্তু কেউ কখনো আইন হাতে তুলে নেবেন না। আমরা মানুষের কল্যাণের জন্য নির্বাচিত হয়েছি। কাজেই মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাটা আমাদের দায়িত্ব। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে দায়িত্ব পালন করা দরকার, আপনারা সেই দায়িত্ব পালন করবেন সংসদে এবং সংসদের বাইরে। আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে চাই। এরকম রাষ্ট্র গড়ার ক্ষেত্রে আপনারা আমার টুলস এবং হ্যান্ডস।”
জ্বালানি সংকট নিরসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ খাতে ভর্তুকি হিসেবে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী শাসনামলে দেশ থেকে ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই ভর্তুকি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে এবং দেশের অর্থ দেশের মানুষের জন্য কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংসদের এক অধিবেশনের প্রসঙ্গ তুলে চিফ হুইপ বলেন, শেরপুরের একটি নির্বাচনের সময় বিরোধী দলের এক সদস্য ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এক কর্মীর মৃত্যুর খবর দেন এবং ইন্না লিল্লাহ পাঠ করেন। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি জীবিত আছেন। এ ধরনের ভুল তথ্য সংসদের কার্যক্রমকে বিভ্রান্ত করে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং বিষয়টি সংসদ থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব আনার কথা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সবাই যাচাই-বাছাই করে বক্তব্য দেবেন।
তিনি আরও জানান, সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করেছে। এর মধ্যে ১৬টিতে সংশোধনের প্রয়োজন দেখা গেছে, যা পরবর্তীতে বিল আকারে আনা হবে। বাকি ১১৭টি অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াকে তিনি নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫ দিনে ১১৭ বিল পাস করার রেকর্ড এই প্রথম, নজিরবিহীন।”
এতকিছুর পরও সামান্য সংশোধনী ইস্যুতে বিরোধী দলের ওয়াকআউটকে তিনি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এটি তাদের অধিকার বলেও স্বীকার করেন।
শেষে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পঁচাত্তরের দুর্ভিক্ষ, বাকশাল, নব্বইয়ের গণআন্দোলন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস নিয়ে একটি সমৃদ্ধ জুলাই জাদুঘর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি মনে করেন, এতে মন্ত্রীদের সম্পৃক্ততা থাকলে কাজের গতি বাড়বে এবং এটি একটি জীবন্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।