
খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার ক্ষুধা লাগা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক মনে হতে পারে। বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রম বেশি হলে শরীরের বাড়তি শক্তির প্রয়োজন হয়। তবে পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরও যদি নিয়মিত অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষুধা ফিরে আসে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
সবসময় বেশি খাওয়ার প্রয়োজন থেকেই এমনটা হয় না। খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের ঘাটতি, মানসিক চাপ কিংবা কিছু শারীরিক সমস্যার কারণেও অতিরিক্ত ক্ষুধা দেখা দিতে পারে।
খাবারে প্রোটিন ও ফাইবার কম থাকলে
শুধু ভাত, রুটি, মিষ্টি বা অন্যান্য পরিশোধিত শর্করাজাতীয় খাবার বেশি খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা নাও থাকতে পারে। ফলে খাবার খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে।
ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, দই, বাদাম, শাকসবজি, ফল ও গোটা শস্যের মতো প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
ঘুমের ঘাটতিতেও বাড়তে পারে ক্ষুধা
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে দিনের বেলায় বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মিষ্টি ও উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণও বাড়তে পারে।
তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
ক্ষুধা নয়, হতে পারে তৃষ্ণা
শরীরে পানির ঘাটতিকে অনেক সময় ক্ষুধা হিসেবে মনে হতে পারে। বিশেষ করে গরমের সময় বা ব্যায়ামের পর এমন অনুভূতি বেশি হতে পারে।
খাবারের মাঝখানে হঠাৎ ক্ষুধা লাগলে প্রথমে পানি পান করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখা যেতে পারে। তবে প্রকৃত ক্ষুধা থাকলে খাবার এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
বেশি পরিশোধিত শর্করায় সমস্যা
মিষ্টি, কোমল পানীয়, বিস্কুট, পেস্ট্রি ও অন্যান্য পরিশোধিত শর্করাজাতীয় খাবার দ্রুত শক্তি দিলেও দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে না। এসব খাবার বেশি খেলে অল্প সময় পরপর ক্ষুধা লাগতে পারে।
তাই খাবারে ফল, শাকসবজি, ডাল, গোটা শস্য ও প্রোটিনসমৃদ্ধ উপাদান রাখলে দীর্ঘক্ষণ তৃপ্ত থাকা সহজ হয়।
মানসিক চাপেও বাড়তে পারে খাওয়ার প্রবণতা
দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ বা একঘেয়েমির সময় অনেকেই প্রকৃত ক্ষুধা না থাকলেও বেশি খাবার খান। একে অনেক সময় ‘ইমোশনাল ইটিং’ বলা হয়।
কখন ক্ষুধা লাগছে এবং তখন মানসিক অবস্থা কেমন—সেদিকে খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক ক্ষুধার পরিবর্তে মানসিক চাপের সময় যদি মূলত খাওয়ার ইচ্ছা বাড়ে, তাহলে বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বেশি ব্যায়াম বা কম খাওয়ার কারণেও হতে পারে
হঠাৎ ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়ানো, শারীরিক পরিশ্রম বৃদ্ধি পাওয়া কিংবা খুব কম ক্যালরির খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলেও ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে। কারণ তখন শরীরের বাড়তি শক্তির প্রয়োজন হয়।
এ ক্ষেত্রে খাবারে পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কখন সতর্ক হবেন?
বারবার বা অস্বাভাবিক ক্ষুধা কখনো কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। ডায়াবেটিস বা হাইপারথাইরয়েডিজমের মতো কিছু রোগে ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে অতিরিক্ত ক্ষুধার পাশাপাশি অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঘাম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মাঝে মাঝে ক্ষুধা লাগা স্বাভাবিক। তবে পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্ষুধা থাকলে এর কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।