
১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে রবার্ট ক্লাইভের সাথে মীর জাফরের যে ঐতিহাসিক গোপন আঁতাত হয়েছিল, তার সাথে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমেরিকার সঙ্গে করা চুক্তির হুবহু মিল রয়েছে বলে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি দেশ স্বাধীন রাখতে হয়, এটাকে বাতিল করতে হবে। সেই মেরুদণ্ড থাকা উচিত।’
সম্প্রতি ‘মানচিত্র’ নামক একটি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক ভিডিওতে তিনি এসব কড়া সমালোচনা করেন।
মীর জাফরের চুক্তি ও আমেরিকার সমীকরণ
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সাথে ইতিহাসের তুলনা টেনে বলেন:
‘১৭৫৭ সালের ২৩ জুনের পরে রবার্ট ক্লাইভের সঙ্গে মীর জাফরের যে চুক্তি, এটার যে ফলাফল বাঙালির জীবনে এনেছিল, বাংলার জীবনে এনেছিল, ইউনূস সাহেবের সঙ্গে আমেরিকার চুক্তি একই ফলাফল আনবে, যদি এই চুক্তি সম্পর্কে আমরা সচেতন না হই এবং প্রতিকার না করি। এটা রবার্ট ক্লাইভের সঙ্গে মীর জাফরের চুক্তি। যদি দেশ স্বাধীন রাখতে হয়, এটাকে বাতিল করতে হবে। সেই মেরুদণ্ড থাকা উচিত।’
তিনি বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার পটপরিবর্তন ও চারিত্রিক মিল নিয়ে সতর্ক করে আরও বলেন:
‘আওয়ামী লীগ যে ভুল কাজগুলো করেছে, যে কঠিনভাবে অন্যায় কাজগুলো করেছে, সেই কাজগুলো যদি বিএনপি করে, একই ফলাফল আসবে, ফলাফলে কোনো বেশকম হবে না, এক ফলাফল আসবে।’
পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নিজ দলের সমালোচনা
বিএনপির এই প্রবীণ ও শীর্ষস্থানীয় নেতা ড. ইউনূসের পথ ধরে বর্তমানে তাঁর নিজের দল কেন পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজের নৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন:
‘আমার দল এখনো কেন ইউনূসের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে যাচ্ছে, এটা বলতে পারেন। সেই কথাটা আমি সেভাবে বলতে চাই না। আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে এই কথাটা বলে গেলাম, পাকিস্তানের সঙ্গে অতিরিক্ত সম্পর্ক আমাদের পেছনে টেনে নিয়ে যাবে। আমাদের জাতিকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে।’
ইসলামাবাদের সাথে এই রহস্যজনক দহরম-মহরমের নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে ফজলুর রহমান বলেন:
‘পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার একটা কারণ হলো একটা সাম্প্রদায়িক মনোভাবকে জীবিত করে রাখা, বাংলাদেশের কিছু অবুঝ ভোটারদের, অবুঝ মানুষের একটা সমর্থন পাওয়া।’