
পবিত্র হজের পুণ্যময় মহাসমাবেশে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত দেশের ৫৯ হাজার ৫৫ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সর্বমোট ১৫২টি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে তারা নিরাপদে সৌদির মাটিতে পা রেখেছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টা পর্যন্ত হজের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানান, নির্ধারিত সবকটি ফ্লাইট জেদ্দা ও মদিনার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফলভাবে অবতরণ করেছে।
১৫ জন হজযাত্রীর মৃত্যু, হাজারো মানুষ পাচ্ছেন সেবা
চলতি বছরের হজ বুলেটিন থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদিতে অবস্থানকালে গতকাল পর্যন্ত ৪ জন নারীসহ মোট ১৫ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। চিকিৎসকদের মতে, তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুই ছিল স্বাভাবিক। মৃতদের মধ্যে ১১ জন পবিত্র মক্কা নগরীতে এবং বাকি ৪ জন মদিনা মুনাওয়ারায় ইন্তেকাল করেন।
বুলেটিনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অসুস্থ হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত সৌদি মেডিকেল টিমের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার ১২৬ জন এবং আইটি হেল্পডেস্কের সহায়তায় ১৭ হাজার ১১০ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন ধরনের জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন।
হজের কোটা ও এজেন্সিভিত্তিক বিন্যাস
পরিচালক লোকমান হোসেন জানান, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন মুসলমানের পবিত্র হজব্রত পালনের কোটা নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে যাচ্ছেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে গমন করছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী। পুরো প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে এ বছর ৩০টি প্রধান ও ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সিসহ মোট ৬৬০টি অনুমোদিত এজেন্সি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, রাষ্ট্রীয় বাহন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৭৬টি বিশেষ ফ্লাইটে ৩০ হাজার ৭৮ জন; সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের (সৌদিয়া) ৫৪টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ৫২১ জন এবং ফ্লাইনাস-এর ২২টি ফ্লাইটে ৮ flag হাজার ৪৫৬ জন যাত্রী সৌদি আরবে গিয়েছেন। অবশিষ্ট ১৯ হাজার ৩২৩ জন হজযাত্রী আগামী কয়েক দিনে পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত সিডিউল ফ্লাইটে রওনা হবেন।
প্রথম ফ্লাইটের উদ্বোধন ও ভিসার পরিসংখ্যান
এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে ৪১৮ জন যাত্রীর প্রথম বহর নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে 'ইএ৩০০১' নম্বরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি ডানা মেলে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক হজ ফ্লাইটের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেছিলেন।
ঢাকার সৌদি দূতাবাসের কাজের অগ্রগতি জানিয়ে হজ অফিস উল্লেখ করেছে, তারা এ পর্যন্ত সর্বমোট ৭৮ হাজার ৩৭৮টি হজ ভিসা ইস্যু করেছে। যার মাঝে সরকারি কোটায় ৪ হাজার ৪৫৫টি এবং বেসরকারি কোটায় ৭৩ হাজার ৯২৩টি ভিসা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মহাকাশ গবেষণা ও চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে হাজিদের নিয়ে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা পরবর্তী ৩০ জুন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।