
উপকূল ও সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরজুড়ে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন, মোংলা। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করার পাশাপাশি বনদস্যু ও চোরা শিকারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের হিসাবে, এক বছরে ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ এবং অস্ত্র তৈরির নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে বনদস্যুদের কবলে থাকা ৫২ জন নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪৯ জন বনদস্যুকে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা জানিয়ে কোস্টগার্ড জানায়, এ সময় ৫ হাজার ৬৭৪ পিস ইয়াবা, ১৩ কেজি গাঁজা এবং ১ হাজার ২৫৬ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ৫১ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সুন্দরবন সংরক্ষণে পরিচালিত অভিযানে ৮২৪ কেজি হরিণের মাংস ও বিভিন্ন অঙ্গ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ৬০০টি হরিণ ধরার ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে এবং ২৯ জন চোরা শিকারিকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৪০০টির বেশি গেওয়া ও গড়ান কাঠ, ২টি তক্ষক, ৬২টি বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ এবং ৩ হাজার ৪০০ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়।
অবৈধ মৎস্য আহরণ ঠেকাতে চালানো অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা মূল্যের ১২ কোটি মিটারের বেশি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১২০ কোটি টাকা সমমূল্যের রেণুপোনা ও ১৪ হাজার কেজি জেলি পুশকৃত চিংড়ি আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনের কথাও জানায় কোস্টগার্ড। গত এক বছরে দুই হাজারের বেশি দুস্থ, অসহায় মানুষ ও শিশুকে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়েছে। শীত মৌসুমে পাঁচ শতাধিক মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়া পরিবেশ ও বন রক্ষা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, দুর্যোগকালীন উদ্ধার, অগ্নিনির্বাপণ, দেশপ্রেম এবং মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, জেলে, মাঝি ও বিভিন্ন পেশার মানুষের অংশগ্রহণে নানা কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন, মোংলার জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কোস্টগার্ড উপকূল ও সুন্দরবন রক্ষা এবং উপকূলীয় এলাকার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে আসছে।” তিনি আরও জানান, “এর ধারাবাহিকতায় গত বছর বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও হরিণের মাংস জব্দ করা হয়েছে।” ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।