
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি এলপিজি গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোতাহের নামের ওই তরুণের মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিনজনে।
এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আবু তাহের ও আবদুর রহিম নামের দুই ব্যক্তি মারা যান। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কলাতলী বাইপাস সড়কের ওই গ্যাসপাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পাম্পের কর্মচারীসহ অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছিলেন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আরএমও শান্তনু ঘোষ জানান, দগ্ধ ব্যক্তিদের শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় কয়েকজনের অবস্থা শুরু থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছিল।
এদিকে ওই গ্যাসপাম্পটির বৈধতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিস্ফোরক পরিদপ্তরের তদন্তে জানা গেছে, পাম্পটির জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি), পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি এবং বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স এর কোনটিই ছিল না। অর্থাৎ সব ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন করে পর্যটন এলাকায় এই ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাটি পরিচালনা করা হচ্ছিল।
এই ঘটনায় রবিবার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন। মামলার একমাত্র আসামি পাম্পের মালিক ও রামু উপজেলার বাসিন্দা নুরুল আলম ওরফে এন আলম পলাতক রয়েছেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন বলেন, “বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, “দাহ্য পদার্থ নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে কড়া নিরাপত্তা ও নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক। তা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।”