
ভুয়া স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখার পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এখন পর্যন্ত ৯১ জন গ্রাহকের ৮ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুদকের সহকারী পরিচালক মাহাথীর মোহাম্মদ সামী ও উপসহকারী পরিচালক মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল ব্যাংক শাখাটিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ক্যাশ অফিসার মো. জিন্নাহ হোসেন, সাবেক ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রেজাউল হক, সাবেক ব্যবস্থাপক ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শরীফ উদ্দীন, নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জু আহমেদ এবং সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল হাই। তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গ্রাহকদের বেশি সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া এফডিআর তৈরি করা হতো। পাশাপাশি চেক জালিয়াতি, ভুয়া জমা স্লিপ তৈরি এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে এ পর্যন্ত ৮ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে ৯১ জন গ্রাহকের তথ্য পাওয়া গেলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।
অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে অনুসন্ধান চলছে। এ ঘটনায় দ্রুত মামলা করার জন্য এজাহার (এফআইআর) দায়ের করা হবে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।