
নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ভূমিকা হারিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে ভোট প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের যে দায়িত্ব, তা তারা পালন করছে না। তার অভিযোগ, কমিশন একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছে, একইভাবে পুলিশ ও প্রশাসনও দলীয় ভূমিকা নিচ্ছে।
মনিরা শারমিন বলেন, “তাহলে আলটিমেটলি আমরা কী দেখছি সামনে? তার মানে একটি দলকে নির্বাচিত করার জন্য অলরেডি রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করছে।” তিনি আরও দাবি করেন, গণমাধ্যমও এর বাইরে নয়। তার ভাষায়, “আমরা দেখছি যে মিডিয়া নগ্নভাবে একটি দলকে সাপোর্ট করছে এবং মিডিয়ার সিইও এবং মিডিয়ায় একদম উচ্চপদস্থ সব জায়গায় কিন্তু দখল হয়ে গেছে একটি দলের।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপির একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমরা শুনলাম যে একটি জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলছেন যে বিএনপি সরকার গঠন করলে হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে।” এরপর তিনি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা গেছে—বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক ব্যাংকগুলোর কাছে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের তথ্য চেয়েছেন, যা তার ব্যক্তিগত চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এনসিপির এই নেত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এমনভাবে তথ্য চাওয়া ও তা দিয়ে একটি দলকে সহায়তা করা কোনোভাবেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বার্তা দেয় না। তার মতে, এটি নির্বাচনি আচরণবিধির চেতনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
শেষে মনিরা শারমিন বলেন, “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে কেউ পার পাবে না।” তিনি জানান, এ বিষয়ে এনসিপি ও ১১ দলীয় জোট কঠোর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলনে নামবে। একই সঙ্গে তারা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত পরিস্থিতি ধৈর্যের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে বলেও জানান তিনি।