
দেশের রাজনীতিতে আরেকটি চমক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক দল- এনপিএ। এনসিপি ছেড়ে আসা নেতাকর্মী এবং জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সমন্বয়ে দীর্ঘ চেষ্টার পর অবশেষে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করল।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করেছে ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)’।
‘জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করা এনপিএ পাঁচটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করবে। এই মূলনীতিগুলো হলো— গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষা।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের জনগণভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমাগম লক্ষ্য করা যায়। বিকেল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চ ও প্যান্ডেলসহ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উল্লেখযোগ্য জনসমাগম তৈরি হয়।
এনপিএ জানায়, দেশের বর্তমান শাসনকেন্দ্রিক ক্ষমতা কাঠামো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের পরিবর্তে শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে এনে দিয়েছে। ফলে জনগণের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোই ক্ষমতা ও সম্পদ আহরণের অংশীদার হয়ে উঠেছে।
প্ল্যাটফর্মটি এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের অধিকার রক্ষা ও সেবাভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তর করার লক্ষ্য রাখবে। এনপিএ তাদের ঘোষণায় আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের পূর্ণ ও কার্যকর পৃথকীকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও কেন্দ্রীয় প্রভাবমুক্ত শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গঠনের দাবি তুলেছে।
অর্থনীতিতে এনপিএ লুটপাট, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটভিত্তিক ব্যবস্থার অবসান চাইছে। তাদের লক্ষ্য স্বনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও জনকল্যাণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজ কৃষিঋণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের জন্য ভর্তুকি এবং শিল্পশ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক মজুরি কাঠামো প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রগতিশীল করব্যবস্থার মাধ্যমে বৈষম্য হ্রাস ও রাষ্ট্রীয় আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট নিয়েও এনপিএ স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি বলেছে, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্প প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নদী দখল, বন উজাড়, দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে এনপিএ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা, জানমাল সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নতুন এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।