
জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) পিতা-মাতার বাংলা নামের পাশাপাশি এখন থেকে ইংরেজি নামও যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি নিবন্ধন ফরমে নিজের ডাকনামসহ পিতা-মাতার ডাকনাম যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইসির এনআইডি অনুবিভাগের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শিক্ষা সনদ, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিতে নিজের নামের পাশাপাশি পিতা-মাতার নাম ইংরেজিতে উল্লেখ থাকে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে তা শুধু বাংলা ভাষায় থাকে। এতে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে নাগরিকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়, বিশেষ করে বিদেশে ভিসা আবেদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের এসব ভোগান্তি কমাতে অনেক আগে থেকেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সদ্য বিদায়ী এনআইডি মহাপরিচালক এ এ এস এম হুমায়ুন কবীরের দায়িত্বকালে কমিশনে এ সংক্রান্ত ফাইল উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে আইন-বিধি নির্ধারণের কাজ চলছে।
এছাড়া এনআইডি নিবন্ধন ফরম-২-এ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মূল নামের পাশে নতুন একটি ঘর যুক্ত করা হবে, যেখানে নাগরিকের ডাকনাম এবং পিতা-মাতার ডাকনাম থাকবে। তবে এসব তথ্য শুধু ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে, এনআইডি কার্ডে মুদ্রিত হবে না।
ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এলাকার কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির সুপারিশের একটি ফিল্ডও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্কুলশিক্ষক, চিকিৎসক বা সমাজে পরিচিত ব্যক্তি সুপারিশকারী হতে পারবেন। এতে ভিনদেশিদের প্রতারণার মাধ্যমে ভোটার হওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে কমিশন।
কর্মকর্তা আরও জানান, পিতা-মাতার ইংরেজি নামের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর নামও ইংরেজিতে সংরক্ষণ করা হবে। তবে ডাকনামগুলো শুধু ডাটাবেজে থাকবে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পিতা-মাতা ও স্বামী-স্ত্রীর ইংরেজি নাম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে এবং আইন-বিধি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন, পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।