
ইসরায়েলের পারমাণবিক কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে ইরানের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অন্তত ১০০ জন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান ব্রডকাস্টারের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ড মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ৫০ জনের বেশি মানুষের সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নেগেভ, লাচিশ এবং ডেড সি অঞ্চলগুলোতে এই বিধিনিষেধ কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার দেশজুড়ে কোনো ধরনের ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে না। বড় আকারের জমায়েত আয়োজনের ক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
শনিবার রাতে চালানো এই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল দিমোনা শহর, যা ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত এই শহরটির নিরাপত্তা অত্যন্ত জোরদার থাকা সত্ত্বেও অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে সরাসরি আঘাত হানে।
শুধু একটি নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এতে আহত শতাধিক মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল নাতাঞ্জে হামলার দায় অস্বীকার করে বলেছে, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত একটি অভিযান। তবে তেহরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্রে সাম্প্রতিক হামলার দায় স্বীকার করেছে তারা। শনিবার দিমোনায় সারাদিনে অন্তত সাতবার বিমান হামলার সাইরেন বেজেছে এবং একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে।
ইসরায়েল তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে বরাবরই আত্মবিশ্বাসী থাকলেও, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিমোনায় কীভাবে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে সক্ষম হলো, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই হামলার জবাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তেহরানের সরকারি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছে। আইডিএফ জানিয়েছে, তাদের এই অভিযান ইরানের শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো ধ্বংসের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
পারমাণবিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইসরায়েলের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্বনেতারা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ দিমোনার মতো সংবেদনশীল স্থানে সরাসরি হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে নাড়া দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা