
সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর হবে শুধুমাত্র তখনই, যখন রিয়াদ আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিয়ে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলেই কেবল বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির আওতায় কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (Enrichment) অনুমোদিত হবে না এবং পুরো কর্মসূচি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ বেসামরিক ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে।
অন্যদিকে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে সুস্পষ্ট অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। ট্রাম্পের সর্বশেষ শর্তের বিষয়ে এখন পর্যন্ত রিয়াদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। পরে সুদান ও মরক্কোও এতে যোগ দেয়।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হবে।
এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানায়, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে আগে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে আলোচনা থাকলেও ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো কার্যক্রমের অনুমতি থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান পারমাণবিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।