
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইরানের এই অবস্থানের কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছেছে ইরানের বার্তা
গালিবাফ বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের শর্ত পূরণ, দেশটির বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।
একই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আগের পর্যায়েও ফিরবে না বলে জানান তিনি।
গালিবাফ বলেন, ‘যতক্ষণ আমাদের শর্তগুলো পূরণ না হবে, ইরানিদের বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি না দেওয়া হবে এবং মার্কিনিরা তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করবে, ততক্ষণ হরমুজ তার পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাবে না।’
একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না তেহরান
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার আরও বলেন, একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর সুযোগ এখন আর নেই।
ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেশটি তার বর্তমান অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
ফেব্রুয়ারির হামলার পর শুরু হয় দীর্ঘ সংঘাত
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এর পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ৪০ দিন ধরে সংঘাত চলতে থাকে।
পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
তবে সেই সমঝোতার পরও দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যেই চুক্তিটির মেয়াদও শেষ হয়ে যায়।
শর্ত মানলে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইরান
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি চুক্তির শর্ত মেনে আগের অবস্থানে ফিরে আসে, তাহলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।
অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থানে ফিরে আসা এবং চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের বিষয়টিকেই আলোচনায় ফেরার অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখছে ইরান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর প্রথম দিনেই ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।
এর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।
সূত্র: আলজাজিরা