
গাজা যুদ্ধের জের ধরে আন্তর্জাতিক বিচারমঞ্চে বড় ধরনের ধাক্কা খেল তেল আবিব। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের আরও পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। রোববার (১৭ মে) ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর সূত্র ধরে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরাইল’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, আইসিসি কর্তৃক সদ্য জারি হওয়া এই পাঁচটি পরোয়ানার মধ্যে তিনটি দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এবং বাকি দুটি জারি করা হয়েছে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নামে। তবে ঠিক কোন তারিখে এই পরোয়ানাগুলো ইস্যু করা হয়েছে, সেই সুনির্দিষ্ট সময়কাল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
গোপনে পরোয়ানা ও ইসরায়েলি প্রশাসনের নীরবতা
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রচলিত কার্যবিধি অনুযায়ী, কৌশলগত কারণে তারা সাধারণত যেকোনো মামলার পরোয়ানা প্রথমে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে জারি করে এবং পরবর্তীতে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করে থাকে। নতুন করে পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা দেশটির স্টেট অ্যাটর্নি অফিস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের মন্তব্য বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এর আগেও কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের এমন কঠোর অবস্থান অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধেও চূড়ান্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আইসিসি।
মূলত ওই বছরেরই (২০২৪) মে মাসে আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান আদালতে এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন পেশ করার পর গভীর তদন্ত শেষে পরোয়ানাগুলো ইস্যু করা হয়। তৎকালীন সময়ে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল—গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান পরিচালনার নামে ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক আকারে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করেছে।