
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় নাম ‘মোহাম্মদ’ হলেও পুরো একটি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঢালাও মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেল ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, অধিকাংশ ইরানি নাগরিকের প্রথম নাম একই এবং তা হলো ‘মোহাম্মদ’।
চীন সফর চলাকালীন ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ব্রেট বায়ারকে এই সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। সেখানে মার্কিন স্পেস ফোর্সের সক্ষমতা এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর মহাকাশ থেকে নজরদারির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার একপর্যায়ে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন।
মহাকাশ থেকে নেমট্যাগ পড়ার দাবি
সাক্ষাৎকারে নিজের শাসনামলে গঠিত মার্কিন স্পেস ফোর্সের আধুনিক প্রযুক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, মহাকাশে থাকা আমেরিকার অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট ক্যামেরার সাহায্যে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে চলাচলকারী যেকোনো ব্যক্তির গতিবিধি ও পোশাকের নেমট্যাগ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পড়া সম্ভব।
নিজের চেনা ভঙ্গিতে রসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের সুর মিলিয়ে ট্রাম্প বলেন, কোনো ব্যক্তির নাম যদি ‘মোহাম্মদ সামথিং’ হয়—এবং সেখানকার প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের নামই মোহাম্মদ হওয়ায় এমনটা অনুমান করা সহজ—তবে মহাকাশ থেকেই নিখুঁতভাবে তার নেমট্যাগ পড়ে নেওয়া সম্ভব। বৈশ্বিক নামসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘মোহাম্মদ’ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জনপ্রিয় নাম হলেও একটি দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর নাম এটি বলে ট্রাম্পের দেওয়া দাবি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
‘ইরানের কাছে এখন কেবল পারমাণবিক ধূলিকণা অবশিষ্ট আছে’
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের পর থেকে তেহরান আমেরিকার জন্য এক বড় নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ইরান যেন কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে, সে বিষয়ে তাঁর প্রশাসন বদ্ধপরিকর। মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের কাছে এখন শুধু ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বা পারমাণবিক ধূলিকণা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
হরমুজ প্রণালি খুলতে শি জিনপিংয়ের মধ্যস্থতার প্রস্তাব
চীন সফর শেষ করে শুক্রবার (১৫ মে) ওয়াশিংটনে ফিরে আসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর ফক্স নিউজের অন্য একটি অনুষ্ঠানে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়েরও তুমুল প্রশংসা করেন। ট্রাম্প জানান, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চলমান ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে মার্কিন প্রশাসন ইরানি বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ-অবরোধ জারি করে। এর ফলে ইরানের উৎপাদিত তেলের প্রধান ক্রেতা দেশ চীনের ওপরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।