
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৬(গ) ধারা কেন অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দেশে ইতোমধ্যে আমদানি করা ভ্যাপ বা ই-সিগারেট বাজেয়াপ্ত বা জব্দ না করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ আদেশ বাস্তবায়নে বাণিজ্য সচিব, কাস্টমস কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম এবং ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। আদেশের পর ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর ৬(গ) ধারায় ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ও ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইনের উপধারা (১) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম এবং এর যন্ত্রাংশ বা অংশবিশেষ—যেমন ই-সিগারেট, ভ্যাপ, ভ্যাপিং, ভ্যাপার ও ই-লিকুইড—এছাড়া হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টস বা ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিজ্ঞাপন, প্রচার-প্রচারণা, প্রণোদনা, পৃষ্ঠপোষকতা, বিপণন, বিতরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন করতে পারবেন না।
উপধারা (২)-এ বলা হয়েছে, এ বিধান লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। একই ধরনের অপরাধ পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তি দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য, মাসদুজ্জামানসহ ৪১ জন ব্যবসায়ী এ ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন এবং ইতোমধ্যে আমদানি করা ভ্যাপ বা ই-সিগারেট জব্দ না করার নির্দেশ দেন।