
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি কথিত গোপন সফরকে কেন্দ্র করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনো উসকানি ছাড়াই ইরানি ভূখণ্ডে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে এই ‘গোপন আঁতাত’ কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না।
নেতানিয়াহুর দপ্তরের দাবি ও আমিরাতের অস্বীকার
গত বুধবার (১৩ মে) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেই নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। তবে আবুধাবি এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যে সফরের কথা বলা হচ্ছে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। তাদের দাবি, ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক কোনো লুকানো বা অনানুষ্ঠানিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং সবকিছুই জনসমক্ষে এবং পরিচিত ‘আব্রাহাম চুক্তি’র আলোকেই পরিচালিত হয়।
‘আগে থেকেই জানতাম’: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আমিরাত অস্বীকার করলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, এই সফরের খবর তেহরানের কাছে আগে থেকেই ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন যে, নেতানিয়াহুর এই সফরের বিষয়টি ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক আগেই দেশের শীর্ষ নেতাদের অবহিত করেছিল।
ইউএই-কে কড়া বার্তা দিয়ে আরাঘচি বলেন, “ইরানের মহান মানুষদের সঙ্গে শত্রুতা বোকার খেলা। ইসরাইলের সঙ্গে গোপন আঁতাত করা ক্ষমার অযোগ্য।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের আঁতাত কেবল বিভাজনই সৃষ্টি করবে এবং যারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
যুদ্ধের ময়দান থেকে কূটনৈতিক লড়াই
উল্লেখ্য, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে আমিরাত। পরবর্তীতে বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানও এই চুক্তিতে যোগ দেয়। তবে বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্ককে চরম বিদ্বেষের চোখে দেখছে তেহরান। —সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।