
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর দাম্পত্য কলহ নিয়ে এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। প্যারিস ম্যাচের সাংবাদিক ফ্লোরিয়ান টার্ডিফের লেখা ‘অ্যান (অলমোস্ট) পারফেক্ট কাপল’ গ্রন্থে দাবি করা হয়েছে, ইরানি বংশোদ্ভূত অভিনেত্রী গোলশিফতে ফারাহানির সঙ্গে প্রেসিডেন্টের ‘ঘনিষ্ঠ’ বার্তার আদান-প্রদানকে কেন্দ্র করেই এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
মেসেজ থেকে ‘স্ল্যাপগেট’ বিতর্ক
বইটিতে দাবি করা হয়েছে, গত বছর ভিয়েতনাম সফরের সময় হ্যানয় বিমানবন্দরে অবতরণের আগমুহূর্তে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ তাঁর স্বামীর ফোনে অভিনেত্রী ফারাহানির পাঠানো কিছু টেক্সট দেখে ফেলেন। একটি বার্তায় অভিনেত্রী লিখেছিলেন যে তিনি প্রেসিডেন্টকে আকর্ষণীয় মনে করেন, যার উত্তরে ম্যাক্রোঁও অভিনেত্রীকে ‘সুন্দরী’ বলে প্রশংসা করেন। এই ঘটনা থেকেই গত বছরের সেই আলোচিত ‘স্ল্যাপগেট’ বা চড় মারার ঘটনার সূত্রপাত বলে লেখক দাবি করেছেন।
সাংবাদিক ফ্লোরিয়ান টার্ডিফ আরটিএল রেডিওতে এই সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে বলেন, "সম্পর্কটি শারীরিক না হলেও তাদের বার্তার আদান-প্রদান ছিল বেশ ঘনিষ্ঠ।"
পুরনো ভিডিও ও এলিসি প্যালেসের ব্যাখ্যা
গত বছর ভিয়েতনাম সফরের একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, বিমান থেকে নামার সময় অত্যন্ত রাগান্বিত ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ প্রেসিডেন্টের মুখ সরিয়ে দিচ্ছেন। সেই সময় এলিসি প্যালেস বিষয়টিকে স্রেফ ‘মজা’ হিসেবে প্রচার করলেও, ১৩ মে বুধবার বাজারে আসা নতুন বইটি বলছে ভিন্ন কথা। ৪৮ বছর বয়সি প্রেসিডেন্ট এবং ৪২ বছর বয়সি অভিনেত্রীর মধ্যকার এই ‘প্লেটোনিক’ সম্পর্কটিই ছিল ৭৩ বছর বয়সি ব্রিজিতের রাগের মূল কারণ।
অস্বীকার ও ট্রাম্পের রসিকতা
অবশ্য বরাবরের মতোই এসব দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। এলিসি প্যালেস এই তথ্যকে ‘ভুয়া সংবাদ’ বলে অভিহিত করেছে। ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র পলিটিকোকে জানিয়েছে, "ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওর সঙ্গে অভিনেত্রীর কোনো সম্পর্ক নেই এবং ব্রিজিত এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন।"
অভিনেত্রী গোলশিফতে ফারাহানিও আগে থেকেই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো ধরণের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে আসছেন। তবে এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক মহলে কতটা চর্চিত তা বোঝা যায় গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যে, যেখানে তিনি এই ‘থাপ্পড়’ নিয়ে রসিকতা করেছিলেন।
এনডিটিভি সূত্রে পাওয়া এই তথ্য ফরাসি রাজনীতির অলিন্দে এবং ম্যাক্রোঁ দম্পতির ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে নতুন করে জনমনে কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।