
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) কংগ্রেসে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য তুলে ধরেন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা, যা যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব হিসেবে প্রকাশ পেল।
পেন্টাগনের প্রধান হিসাবরক্ষকের দায়িত্বে থাকা জুলস ‘জাই’ হার্স্ট জানান, এই বিপুল ব্যয়ের বড় অংশই গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের পেছনে গেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এটি সম্পূর্ণ হিসাব নয় এবং প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে।
হার্স্টের দেওয়া তথ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস হওয়া রাডার ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্নির্মাণ বা প্রতিস্থাপনের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এসব ক্ষয়ক্ষতি যোগ করলে মোট ব্যয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার বা ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
যুদ্ধের শুরুর দিকেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলায় বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে অবস্থিত অন্তত নয়টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে। পাশাপাশি জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাডার সিস্টেম, সৌদি আরবের একটি ঘাঁটিতে একটি মার্কিন বিমানও ধ্বংস হয়।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে জেরার মুখে বলেন, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেই লক্ষ্য বিবেচনায় এই ব্যয় যৌক্তিক। তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এটিকে অসম্পূর্ণ বলে দাবি করেছেন।
এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধের অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ ব্যয়ের পূর্ণ চিত্র এখনো প্রস্তুত হয়নি। পাশাপাশি ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এই পুনর্গঠন খরচ ধরা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং একাধিক বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং কয়েক শ আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনীতিতেও পড়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতিতেও দেখা যাচ্ছে।
জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন ক্রমেই কমছে। মাত্র এক-তৃতীয়াংশেরও কম মার্কিন নাগরিক এখন এই সংঘাতকে সমর্থন করছেন বলে সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে।