
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম বৈশ্বিক উত্তেজনা চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিধিনিষেধ ও কঠোর আইন অমান্য করার দায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে প্রায় ৩,৫০০ পাকিস্তানি নাগরিককে একযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ ধনী দেশটিতে অবস্থান করে অনলাইন আইন লঙ্ঘন করার চড়া মূল্য দিতে হলো এই বিপুল সংখ্যক প্রবাসীকে।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য নেশন’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদকে (পার্লামেন্ট) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গণ-বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
দেশটির আইনপ্রণেতাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবগত করেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কড়া অনলাইন কনটেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত সাইবার আইন ভঙ্গ করে বিভিন্ন স্পর্শকাতর কার্যক্রম বা পোস্ট শেয়ার করার অপরাধেই মূলত এই নির্বাসনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তান সরকার আরও জানিয়েছে, আকস্মিকভাবে বহিষ্কৃত হওয়া এসব ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র আমিরাতের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বৈধ উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়েছে।
সম্পত্তি বুঝে পাওয়া বা এই সংক্রান্ত অন্য যেকোনো জটিলতায় পড়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক ও আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জাতীয় সংসদকে আশ্বস্ত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী পাকিস্তানি নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, কানুন ও ধর্মীয়-সামাজিক বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং জনসমক্ষে যেকোনো ধরনের বক্তব্য বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ইসলামাবাদ।
‘অ্যাসোসিয়েশন অব ওভারসিজ পাকিস্তানি’-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ পাকিস্তানি নাগরিক সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। বিশাল এই প্রবাসী জনগোষ্ঠী প্রতি বছর রেমিট্যান্স হিসেবে পাকিস্তান রাষ্ট্রে ৬০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান, যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র সংকটে ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তান বর্তমানে পর্দার আড়ালে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাজ করছে।