
ওমান উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর ভারতের পক্ষ থেকে কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হলেও তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন বিধিমালা নিয়ে বিন্দুমাত্র নমনীয়তা দেখায়নি ওয়াশিংটন। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর জারি করা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ কোনো অবস্থাতেই অমান্য করা যাবে না বলে ভারতকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গত কাল শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এদিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্করের সাথে জরুরি ফোনালাপে অংশ নেন। দুই দেশের শীর্ষ এই দুই কূটনীতিক কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে ওই রুট দিয়ে চলাচলকারী সমস্ত বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজকে অবিলম্বে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর যাবতীয় নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
ফোনালাপে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ লঙ্ঘন ও অবৈধভাবে ইরানের তেল পরিবহন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।’
এর আগে গত শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্কর জানান, মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলাপকালে তিনি ওমান উপকূলে একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন মার্কিন নৌবাহিনীর চালানো প্রাণঘাতী হামলার তীব্র ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মূলত হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটনের একক অবরোধ চলাকালেই এই বিতর্কিত হামলার ঘটনাটি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন যে, পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তিনি আবারও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভারতের কঠোর আপত্তির কথা জানিয়েছেন। একই সাথে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এমন প্রাণঘাতী সামরিক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি উষ্মা প্রকাশ করেন।
ভারতের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আনাদোলু তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ওমান সাগরে চালানো ওই রক্তক্ষয়ী হামলার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে দায়িত্বরত শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিককে জরুরি তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিককে তলব করল নয়াদিল্লি।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের খনিজ তেল অবৈধভাবে পরিবহনের চেষ্টা করায় মার্কিন বাহিনীর বিশেষ অভিযানে তিনটি বিশাল জাহাজ অচল ও বিকল করে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সেই জাহাজ তিনটি হলো— গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘এম/টি জলবীর’, পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার ‘এম/টি ম্যারিভেক্স’ এবং ‘এম/টি সেত্তেবেলো’।