.jpg.webp)
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালীন ইরাকের অভ্যন্তরে ইসরায়েল একটি গোপন সামরিক পোস্ট বা ঘাঁটি স্থাপন করেছিল—এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইরাকের পার্লামেন্ট দেশটির প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রীকে তলব করতে যাচ্ছে। 'দ্য নিউ আরব'-এর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
একটি সংসদীয় সূত্র জানিয়েছে যে, এই কথিত ইসরায়েলি ঘাঁটির পেছনের সত্যতা নিশ্চিত করতে উর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
গত শনিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরান-সংঘাতের সময় ইসরায়েল ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে একটি গোপন আউটপোস্ট তৈরি করেছিল। এই স্থানটি মূলত বিমান অভিযান পরিচালনায় সহায়তা এবং বিশেষ বাহিনীর ইউনিটগুলো মোতায়েনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুসারে, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে এই স্থাপনাগুলো তৈরি করা হয় এবং পরবর্তীতে মার্চ মাসে ইরাকি সেনাদের ওপর একটি হামলায় এটি ব্যবহার করা হয়েছিল, যখন ইরাকি সেনারা দুর্ঘটনাবশত এই ঘাঁটির অবস্থান প্রায় শনাক্ত করে ফেলেছিল।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র 'মারিভ' রবিবার জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ওই অগ্রবর্তী অবস্থানে উদ্ধারকারী দল এবং কমান্ডো ইউনিট মোতায়েন করেছিল, যাতে প্রয়োজন হলে ইরানের ভেতর থেকে বিধ্বস্ত বিমানের ক্রুদের উদ্ধার করা যায়।
ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম 'ফাইটুকস নেটওয়ার্ক' (Faytuks Network) মার্চ মাসে তোলা কিছু স্যাটেলাইট ইমেজ প্রকাশ করেছে, যেখানে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমির একটি শুকনো হ্রদের ওপর অস্থায়ী বিমান উড্ডয়ন পথ (airstrip) দেখা গেছে। সেখানে বিমান এবং কিছু অস্থায়ী কাঠামোও দৃশ্যমান ছিল।
গত ৪ঠা মার্চ ইরাকি গণমাধ্যম জানিয়েছিল যে, নাজাফ ও কারবালার মধ্যবর্তী মরুভূমিতে এক অজ্ঞাত বিদেশি বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে একজন ইরাকি সেনা নিহত হয়েছেন। ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার থেকে সেনা নামানোর খবরের সত্যতা যাচাই করতে ইরাকি বাহিনী সেখানে গিয়েছিল।
সংসদীয় ওই কর্মকর্তা 'দ্য নিউ আরব'কে বলেছেন, ইরাকি কর্তৃপক্ষ শুরুতে ধারণা করেছিল যে ওই বাহিনীটি মার্কিন এবং তারা আন্তর্জাতিক জোটের অধীনে কাজ করছে। তবে নিরাপত্তা সূত্রগুলো বেশ কয়েকটি আরব সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে যে, বর্তমানে ওই স্থানে কোনো ইসরায়েলি উপস্থিতি নেই।
এই প্রতিবেদনগুলো ইরাকজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং সরকারের কাছ থেকে ব্যাখ্যা ও জবাবদিহিতার দাবি জোরালো হচ্ছে। ইরাকি এমপি রায়েদ আল-মালিকি অভিযোগ করেছেন যে, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের আকাশসীমা ইসরায়েলের হাতে তুলে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সময় ইরাকের আকাশসীমা জায়নবাদী সত্তার হাতে তুলে দিয়েছিল এবং রাডার সিস্টেম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। এখন এটি স্পষ্ট যে ইরাকি ভূখণ্ডকেও তাদের গোপন গোয়েন্দা কেন্দ্র বা ঘাঁটি স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।"
উল্লেখ্য, ইরাক সরকার এখন পর্যন্ত এই প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।