
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে যৌথ উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে নীতিমালা সহজীকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যদূত রাইট অনারেবল ব্যারোনেস উইন্টারটন অব ডনকাস্টার ডিবিই। তিনি বলেন, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব চুক্তি সহজ করতে ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন গাইডলাইন সংশোধন প্রয়োজন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ প্রস্তাব দেন। সভায় ব্রিটিশ হাই কমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বিষয়ক পরিচালক সাকিব এরশাদ, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার সৈয়দ হাবিবুর রহমান, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান ও একই প্রতিষ্ঠানের হেড অব এডুকেশন তৌফিক হাসান।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সভায় অংশগ্রহণ করে। প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক জেসমিন পারভিন।
সভায় ব্রিটিশ প্রতিনিধিরা জানান, যুক্তরাজ্যের বহু স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো উপকৃত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান বজায় রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তারা আরও জানান, বাংলাদেশেও ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন ও ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশনের আওতায় যৌথ ডিগ্রি, ডুয়েল ডিগ্রি, স্টাডি সেন্টার বা ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস চালু করা হলে মূল ক্যাম্পাসের শিক্ষার মান অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব।
তবে বিদ্যমান গাইডলাইন জটিলতা ও প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে অনেক ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারছে না বলে তারা উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে নীতিমালা সংশোধনে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করে ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে ইউজিসি স্বাগত জানায়। তবে এ ক্ষেত্রে শিক্ষার মান যেন দুই দেশের মধ্যে সমমানের থাকে, তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, স্টাডি সেন্টার বা ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাসে মূল ক্যাম্পাসের অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে একই মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার ব্যয় সকল শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থীর নাগালের মধ্যে রাখতে হবে, যাতে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ থেকে সৃষ্ট বৈষম্য কমানো যায়।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়াতে প্রয়োজনে ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন গাইডলাইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অপরদিকে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বলেন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক কার্যক্রমে ইউজিসি সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তবে শিক্ষার মানের সামঞ্জস্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন ও ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন এগিয়ে নিতে ইউজিসি ও ব্রিটিশ কাউন্সিল যৌথভাবে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সম্মত হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।