
সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ইংরেজি দক্ষতা বাড়াতে থাইল্যান্ডে পাঠানোর সরকারি উদ্যোগ ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা, সঙ্গে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
জানা গেছে, উপ-সচিব থেকে সিনিয়র সচিব পর্যায়ের প্রায় সাড়ে ৩০০ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি থাইল্যান্ডের পর্যটননির্ভর শহর পাতায়া থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত, যা নিয়েও বিভিন্ন মহলে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে বিয়াম ফাউন্ডেশন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে এমন প্রশিক্ষণে কর্মকর্তাদের আগ্রহ কম থাকায় বিদেশে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএনপি সরকারের প্রথম একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
তবে দেশের চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্প নিয়ে তীব্র সমালোচনা করছেন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তারা।
লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘রাজনীতি এবং আমলাতন্ত্র দুইটার মধ্যে যখন শুদ্ধাচারের ব্রত না আসবে, সদিচ্ছা জাগ্রত না হবে, ততদিন আপনার কোনোটাই ভালো চলবে না।’
অন্যদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি উচ্চপদে অধিষ্ঠিত কর্মকর্তাদের ইংরেজি শেখার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কোনো সচিব যদি মনে করে ইংরেজি শিখতে বিদেশে যেতে হবে। তাহলে তার সচিব হওয়ারই যোগ্যতা নাই। তারপরও যদি কোনো প্রয়োজন থাকে, ঘাটতি থাকে সেটি বাংলাদেশে ঘরে বসেই যেকোনো ব্যক্তি শিখতে পারেন।’
সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সেবার মান বাড়াতে প্রতি বছর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক। তারা শুধু জানিয়েছেন, আগে কৃচ্ছ্রসাধন নীতির কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি, এবার নতুন করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।