দেশের প্রয়োজন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত সরকার আমাদের চাইবে, মাঠে থেকে বিভিন্ন কাজ করে যাব। টাইম টু টাইম বিভিন্ন কাজে আমাদের হয়তো সরকারকে সহায়তা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কুমিল্লা সেনানিবাস-এ সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সেনাপ্রধান জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে। বর্তমানে দেশের ৬২ জেলায় প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এরই মধ্যে কিছু সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও পুরোপুরি প্রত্যাহার এখনো হয়নি। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ধীরে ধীরে সবাইকে ব্যারাকে ফিরিয়ে আনার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। বর্তমানে জ্বালানি ডিপোসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সেনাসদস্যরা মোতায়েন আছেন বলেও জানান তিনি।
ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব যুদ্ধের প্রস্তুতি ধরে রাখা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের কারণে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ব্যাহত হলেও এখন আবার ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ফায়ারিং অনুশীলনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক প্রতিযোগিতায় সেনাসদস্যদের দক্ষতা সন্তোষজনক ছিল এবং দীর্ঘদিন মাঠে দায়িত্ব পালনের পরও সক্ষমতায় ঘাটতি দেখা যায়নি।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন সেনাপ্রধান। গত শুক্রবার (১৬ মে) শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, স্বতন্ত্র ব্রিগেড ও প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়। এতে ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হয়।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।