
ই-পাসপোর্ট করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা। আবেদন, ছবি তোলা এবং পাসপোর্ট অ্যাকটিভেশন—প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করতে আলাদা আলাদা অফিসে যেতে হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। ফলে একটি পাসপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময়ের পাশাপাশি বাড়ছে খরচ ও ঝামেলা।
প্রবাসীরা জানান, প্রথমে এক অফিসে গিয়ে আবেদন করতে হয়, এরপর অন্য অফিসে গিয়ে ছবি ও বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। পাসপোর্ট প্রস্তুত হয়ে দূতাবাসে পৌঁছানোর পর সেটি সংগ্রহ করে আবার আগের অফিসে গিয়ে অ্যাকটিভ করতে হয়। এই জটিল প্রক্রিয়ার কারণে তাদের কয়েকবার ছুটি নিতে হচ্ছে, যা কর্মস্থলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে প্রবাসীরা পাসপোর্ট অধিদফতর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নূরুল আনোয়ার বলেন, প্রবাসীদের এই ভোগান্তি দূর করতে করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তারা যেন হয়রানি ছাড়াই পাসপোর্ট পেতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর-এ অবস্থিত দুটি পৃথক স্থানে ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে। একটি হলো সাউথ গেট কমার্শিয়াল সেন্টার (জালান দুআ, চ্যান সো লিন), যেখানে আবেদন ও বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অন্যটি পাসপোর্ট সার্ভিস সেন্টার (জালান আমপাং), যেখানে পাসপোর্ট সরবরাহ করা হয়। দুই অফিসের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার।
প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম বলেন, একই স্থানে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা গেলে সময়, অর্থ ও শ্রম—সবকিছুই সাশ্রয় হতো। বর্তমানে এক অফিস থেকে আরেক অফিসে যাতায়াতে বাড়তি খরচ ও সময় নষ্ট হচ্ছে।
আরেক প্রবাসী ইমরান হোসাইন অভিযোগ করেন, মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি থাকলেও দূতাবাস থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। পাসপোর্ট সংক্রান্ত এই জটিলতা তাদের জন্য আরও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রবাসীরা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়ে একই স্থানে ই-পাসপোর্ট ইস্যু ও ডেলিভারি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।