
মাদ্রাসা এবং আলেম-ওলামাদের অধিকার রক্ষায় যেকোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকারে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। আলেম সমাজের মর্যাদার ওপর আঘাত আসে—এমন কোনো অন্যায় বরদাশত করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরনের বঞ্চনা বা অবিচারের শিকার না হন, সে বিষয়ে খোদ সরকার প্রধানের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
আজ রোববার (১৭ মে) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আলেম-ওলামাদের ভূমিকা নির্ধারণে এই সভার আয়োজন করা হয়।
‘আলেমদের জন্য ইসলাম টিকে থাকবে’
ইসলামের প্রচার ও প্রসারে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি আছি। কিন্তু আলেম-ওলামাদের ওপর কোনো অবিচার-অত্যাচার, জুলুম হতে দেব না, ইনশাআল্লাহ। মাদ্রাসাগুলোকে যেন বঞ্চিত করা না হয়, তাদের প্রতি যেন অবিচার না করা হয় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার বিষয়ে আমরা সোচ্চার আছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ওলামায়ে কেরামদের জন্য ইসলাম টিকে আছে, টিকে থাকবে। ইসলামের প্রচারের জন্য এবং মাদ্রাসাগুলো চালানোর জন্য কারো কোনো সাহায্য প্রয়োজন হয় না। আল্লাহপাকই কেয়ামত পর্যন্ত এগুলোকে টিকিয়ে রাখবেন।’
এ সময় দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আলেম সমাজকে একটি একক প্ল্যাটফর্মে আসার আহ্বান জানান তিনি।
চামড়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
কুরবানির চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং অপচয় রোধে আলেমদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে চামড়ার বাজার ধসের কারণে অনেক সময় তা মাটিতে পুঁতে ফেলার নজির দেখা গেছে। এবার যেন তেমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। চামড়ার গুণগত মান বজায় রেখে তা ছাড়ানো ও সংরক্ষণের তাগিদ দিয়ে তিনি অসাধু চামড়া সিন্ডিকেট ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।
জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের অবদান স্মরণ
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৯ সালের গণভোটের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত না থাকলেও পীর-মাশায়েখ, কওমি আলেম এবং মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পক্ষে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই সেদিন ‘হ্যাঁ’ ভোট বিপ্লব সফল হয়েছিল। একই সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কওমি আলেমদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের অধিকার প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকার প্রধানই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতার কথা চিন্তা করেননি। তারেক রহমান সেটা করেছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মরত ব্যক্তিরা এ সম্মানী ভাতা পাবেন।’
বিশিষ্টজনদের বক্তব্য ও সুপারিশ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।
এছাড়া সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—ইফা সচিব শেখ মুর্শিদুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ, মুহাদ্দিস ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান, জামিয়া ফোরকানিয়া লালবাগ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হাফেজ মুফতি যুবায়ের আহমদ এবং আজিমপুর ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আগত ওলামা-মাশায়েখ ও বক্তারা কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর বাজার তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। উক্ত সভায় ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রধান (মুহতামিম), শিক্ষক, এবং বিভিন্ন মসজিদের খতিব ও ইমামরা অংশ নেন।