আর্জেন্টিনায় প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে মাঝ আকাশে একটি ছোট বিমানের দরজা খুলে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক প্রশিক্ষক পাইলট। তার এমন আকস্মিক ঘটনায় বিমানে থাকা ২২ বছর বয়সী এক শিক্ষানবিশ পাইলট আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত একাই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার।
নিহত প্রশিক্ষক পাইলটের নাম লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বেরতাজ্জো (৪২)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা ও প্রতিবেশী চিলিতে ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সেসনা ১৫০’ মডেলের একটি প্রশিক্ষণ বিমানে শিক্ষানবিশ পাইলট রোজারিওকে নিয়ে উড্ডয়ন করেছিলেন বেরতাজ্জো। শিক্ষার্থীর জবানবন্দি অনুযায়ী, উড্ডয়নের একপর্যায়ে প্রশিক্ষক নিজের হেডসেট ও সিটবেল্ট খুলে ফেলেন। এরপর বিমানের দরজা খোলার আগে শিক্ষার্থীকে বলেন, ‘তুমি জানো তোমাকে কী করতে হবে। চালিয়ে যাও।’ এরপরই তিনি চলন্ত বিমান থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর হঠাৎ করেই বিমানে একা হয়ে পড়েন শিক্ষানবিশ রোজারিও। প্রথমে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও পরিস্থিতি সামলে নিয়ে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন।
বেরতাজ্জো যে ‘ফ্লাইং প্যারট কর্ডোবা’ ফ্লাইং স্কুলে কর্মরত ছিলেন, তার পরিচালক এদুয়ার্দো আলভারেজ বলেন, ঘটনার দিন সকালেও তিনি আরেক শিক্ষার্থীকে নিয়ে সফলভাবে একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সম্পন্ন করেছিলেন। তার আচরণে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতার আভাস পাওয়া যায়নি।
আলভারেজ আরও বলেন, ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে উড়ন্ত একটি বিমানের দরজা খোলা অত্যন্ত কঠিন। তাই একজন শিক্ষার্থী পাশে থাকা অবস্থায় তিনি কীভাবে এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিলেন, তা ব্যাখ্যা করা কঠিন।
লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বেরতাজ্জো শুধু আর্জেন্টিনাতেই নয়, চিলিতেও দীর্ঘদিন ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তথ্যসূত্র: টিএন, আর্জেন্টিনার পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়।