
দেশে যারা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে উন্নয়ন ও আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ, তবে যেকোনো অন্যায়কারীর বিচার ও শাস্তি প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হবে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "গত কয়েকদিন ধরে কিছু সংখ্যক মানুষ একটি ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাচ্ছে; রাস্তা-ঘাট ও যান চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে। এই কাজগুলো যারা করে, তারা প্রথমেই আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে। আইনকে তার নিজের গতিতে চলতে দিতে হবে।"
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের কথা স্মরণ করে বলেন, "সেই সময়েও দেশে কয়েকটি অন্যায় ঘটেছিল। তখন আমি নিজে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, আমাদের দলের চিকিৎসকরা চিকিৎসা এবং আইনজীবীরা আইনি সহায়তা দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকে যারা রাস্তা অবরোধ করে হৈচৈ করছে, সেদিন তাদের মাঠে দেখা যায়নি।"
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যারা বর্তমানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তারা দেশের মানুষের কর্মসংস্থান, কৃষকের খাল খনন বা কৃষক কার্ডের মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলে না। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "তারা যদি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে, তবে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়বে। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"
গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, "পত্র-পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় খোঁজ নিয়ে দেখেন—দেশের মানুষ যাদের এই মাটি থেকে বিতাড়িত করেছিল, এখন যারা অরাজকতা করতে চায়, তারা সেই স্বৈরাচারী শক্তির সাথে তলে তলে হাত মিলিয়েছে। এটি ঠিক ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক আঁতাতের পুনরাবৃত্তি।"
তিনি আরও যোগ করেন, ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে, তারা মানুষের ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এখন দেশের মানুষ সেই অন্ধকার অতীত পেছনে ফেলে ভাগ্যের পরিবর্তন চায়।
দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি ও রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের দক্ষ শ্রমিকের হাত তৈরি করতে হবে। এই বিপুল জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতাল তৈরি করা হবে।"
সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়েই তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে চায়। একদিকে দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের কাজ সফল করা এবং অন্যদিকে যারা ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকা এখন সময়ের দাবি। জনগণকে সাথে নিয়ে যেকোনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।