
ভারতের রাজনীতিতে আলোচিত দল আম আদমি পার্টি এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে। দলটির পরিচিত মুখ রাঘব চাড্ডাসহ রাজ্যসভার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনায় ভেতরে ভেতরে অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সংসদে প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনেও বড় ধাক্কার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়াল-এর নেতৃত্বাধীন এই দলে। এরই মধ্যে আরও ২৮ জন বিধায়কের দল ছাড়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
২০১২ সালে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে আম আদমি পার্টি। মাত্র এক বছর পরই দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে চমক দেখিয়ে ৭০টির মধ্যে ২৮টি আসনে জয় পায় দলটি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে সরকার গঠন করে।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এককভাবে ৭০ আসনের মধ্যে ৬৭টিতে জয় পেয়ে নজির গড়ে কেজরিওয়ালের দল। ২০২০ সালেও ৬২টি আসন জিতে ভারতীয় রাজনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখে তারা।
তবে সেই জনপ্রিয় দল এখন কঠিন সময় পার করছে। রাঘব চাড্ডার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণার পর একই পথে হাঁটছেন রাজ্যসভার আরও ছয় সদস্য। সব মিলিয়ে দলটির রাজ্যসভার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যই দলত্যাগের পথে।
বর্তমানে রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির সদস্য সংখ্যা ১০ হলেও তা কমে দাঁড়াচ্ছে মাত্র তিনে। এর বড় অংশই পাঞ্জাব থেকে নির্বাচিত হওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংগঠনের ভেতরেও শূন্যতা তৈরি হয়েছে। রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্ব এবং পাঞ্জাবে সাংগঠনিক শক্তি—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে দোরাইস্বামী রাজা বলেন, 'আম আদমি পার্টির গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত কেন এমন লোকদের নির্বাচিত করা হয়েছিল। কীভাবেই বা তারা চলে যাচ্ছে। এটি একটি গুরুতর বিষয়, এর প্রভাব পাঞ্জাবেও পড়বে। কারণ পাঞ্জাবেই এএপি'র সরকার রয়েছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে গণতন্ত্রের কী হবে?'
অন্যদিকে সমাজ সংস্কারক আন্না হাজারে দলবদলকে গণতন্ত্র ও সংবিধানের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেওয়া উচিত নয়। স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করা ঠিক কাজ নয়। আমাদের সংবিধানে এর উল্লেখ নেই। আমাদের সংবিধানই সর্বোচ্চ। আমাদের দেশ সংবিধানের ভিত্তিতেই চলে।’
এদিকে দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হরিয়ানার সাবেক রাজ্য সভাপতি নবীন জয়হিন্দ দাবি করেছেন, একযোগে ২৮ জন বিধায়ক দল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই দাবি সত্য হলে আম আদমি পার্টির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।