
নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কর্মীদের সাথে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীর সদর উপজেলায়। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষের সময় একটি মোটরসাইকেল ও এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি করেছে।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে ঘটে যাওয়া এই সহিংসতায় নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয়সহ দুই পক্ষের অন্তত ১৬ জন কমবেশি জখম হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেলের নেতৃত্বে একই স্থানে একটি পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশ থেকে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই ধরে পুলিশে সোপর্দ করার ঘোষণা দেন ছাত্রদল নেতারা।
রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একটি মোটরবাইক বহর নিয়ে শোডাউন করে ফিরছিলেন। পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তথা সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির কাছের একটি দোকানে বসা অবস্থায় দেখতে পান তারা। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে ছাত্রদল কর্মীদের তীব্র কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেলিমকে জোরপূর্বক মোটরবাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়রা মসজিদের মাইক ব্যবহার করে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘোষণা দিলে মুহূর্তের মধ্যে গ্রামবাসী, আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে জড়ো হন এবং ছাত্রদলকে ধাওয়া করেন। এর পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের মাধ্যমে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। সংঘর্ষের মুখে ছাত্রদলের কর্মীরা পিছু হটলে তাদের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই সংঘাতের জেরে শ্রমিক দল নেতা হৃদয়সহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৬ জন আহত হন। ঘটনার রেশ এখানেই শেষ হয়নি; পরবর্তীতে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দলবদ্ধ হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিম চেয়ারম্যানের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।
হামলার বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল দাবি করেন, "চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনি। হামলায় আমাদের তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।"
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "কী বলব- একটা ঘটনার পর ছাত্রদল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনে ঘি ঢেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাল। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।"