
সরকারি দপ্তরের কঠোর নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে খোদ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের ভেতরেই নজিরবিহীন সংঘাত ও মারামারিতে লিপ্ত হয়েছেন বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা।
আজ রোববার (৭ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহের এই শীর্ষ প্রশাসনিক ভবনের দোতলায় প্রকাশ্য দিবালোকে এই মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ সময় নেতাদের আকস্মিক মারামারি থামাতে গিয়ে জনি (৩০) নামে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের এক অফিস সহকারী জখম হয়েছেন। সরকারের এই স্পর্শকাতর স্থানে রাজনৈতিক নেতাদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেপরোয়া আচরণে সাধারণ মানুষ এবং কর্মকর্তাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দোতলার বারান্দায় আকস্মিকভাবে এই হট্টগোলের সূত্রপাত হয়।
সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্যসচিব হাফেজ আজিজুল হক জেলা প্রশাসকের কক্ষের ভেতর থেকে জরুরি কাজ শেষে বাইরে বের হচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন ডিসির কক্ষে ঢোকার জন্য বারান্দা দিয়ে যাচ্ছিলেন। দুজনে একে অপরের মুখোমুখি হতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তোফাজ্জল হোসেন প্রথমে হাফিজ আজিজুলকে উদ্দেশ্য করে ‘বহিষ্কৃত’ ও ‘দালাল’ বলে কটূক্তি করেন। এতে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে হাফেজ আজিজুলও ‘তুই দালাল, তোর বাপ দালাল’ বলে তীব্র ভাষায় পাল্টা গালমন্দ শুরু করেন।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয়েই একে অপরকে চড়-থাপ্পড়সহ হাতাহাতি শুরু করেন। মারামারি চলাকালীন রাগের মাথায় হাফিজ আজিজুল বারান্দায় রাখা একটি মাটির তৈরি ফুলের টব উপড়ে নিয়ে তোফাজ্জলকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারার চেষ্টা করেন, যা ফ্লোরে পড়ে সশব্দে ভেঙে যায়।
এ সময় সরকারি দপ্তরে এমন মারামারি দেখে সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা হতবাক হয়ে যান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিসির বডিগার্ড (পুলিশ সদস্য) মো. জাকির হোসেন এবং অফিস সহকারী জনিসহ অন্যান্য কর্মচারীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। উত্তেজিত দুই নেতাকে টেনে হিঁচড়ে শান্ত করার চেষ্টা করার সময় আচমকা অফিস সহকারী জনি (৩০) হাতে গুরুতর চোট পান।
পরবর্তীতে এই লজ্জাজনক কোন্দলের ব্যাপারে হাফেজ আজিজুল হক ও তোফাজ্জল হোসেন—উভয় নেতার সাথেই কথা বলা হলে তাঁরা ঘটনার সত্যতা অকপটে স্বীকার করেন।
এদিকে, সরকারি অফিসের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে প্রকাশ্য বারান্দায় নেতাদের এমন সংঘাতের ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “হঠাৎ এ ঘটনার সূত্রপাতে আমিসহ উপস্থিত অন্যরাও বিব্রত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দায়িত্বশীলদের কাছে কাম্য নয়।”