
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই দারুণ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে প্রথম দিনেই স্বাগতিকদের ১৯৮ রানে অলআউট করে ব্যাট হাতেও দৃঢ়তা দেখিয়েছে টাইগাররা। দিন শেষে ১ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯৬ রান। ফলে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১০২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবে বাংলাদেশ।
দিনের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের তোপে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন নেন দুটি করে উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার ১০টি উইকেটই শিকার করেছেন বাংলাদেশের পেসাররা।
স্বাগতিকদের হয়ে লড়াই করেছেন কেবল স্টিভেন স্মিথ। একপ্রান্ত ধরে রেখে ৭১ রানের ইনিংস খেললেও সতীর্থদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি তিনি। স্মিথ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আর কোনো ব্যাটার ২৫ রানও করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় তাদের প্রথম ইনিংস।
বাংলাদেশের বোলিংয়ে দিনের নায়ক হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার প্রথম কীর্তি গড়েছেন তিনি। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও গড়েন এই পেসার। বাকি চার উইকেটের দুটি করে ভাগ করে নেন তাসকিন ও এবাদত।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই জীবন পান তানজিদ হাসান তামিম। জশ হ্যাজলউডের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নাথান লায়ন সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি। এরপর সাদমান ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন তানজিদ।
তবে নবম ওভারে মিচেল স্টার্কের বলে ভাঙে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। অফ স্টাম্পের কাছাকাছি করা স্টার্কের ডেলিভারিতে ব্যাটের কানায় লেগে বল গালির দিকে যায়। সেখানে নাথান লায়ন এবার আর ভুল করেননি। ৩০ বলে ২০ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাদমান। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার।
সাদমানের বিদায়ের পর তানজিদের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দেন মুমিনুল হক। এরপর আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং সামলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেন তানজিদ ও মুমিনুল।
দিনের তৃতীয় সেশনে দুজন মিলে গড়ে তোলেন অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের জুটি। দিনের খেলা শেষ হলে তানজিদ ৩২ এবং মুমিনুল ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ।